তোমায় শাস্তি পেতে হবে
জোড়পূর্বক ধ*র্ষণ করার দুইদিন পর আকাশের বিয়েটা মহাধুমধামে সাদিয়ার সাথে হয়ে গেল। বিপত্তি সেখানে নয়। বিপত্তি বাধল যখন বাসর ঘরে ঢুকে বউ এর ঘুমটা খুলে আকাশ দেখল এটা সেই মেয়ে যাকে সে ২ দিন আগে ধ*র্ষণ করে হ*ত্যার পর মাটি চাপা দিয়েছে। বিয়ের আগে সাদিয়াকে দেখেনি আকাশ। সাদিয়া এতোই পর্দাশীল ছিলো যে সে কারো সামনে আসতে রাজি হয়নি। তার মা এর কাছে শুনেছে মেয়ে অনেক ফর্সা সুন্দরী শিক্ষিত আর পর্দাশীল। একটা ছেলে যতই নিম্নশ্রেণির কী*ট হোকনা কেন সে বিয়ে করার সময় পবিত্র কু*মারী মেয়েই খুজে। যাই হোক আকাশ কিছুই বুঝতে পারতেছেনা হচ্ছেটাকি। সে ঋতিমত ভয় পেয়ে গেছে। টেবিলের কানিতে রাখা পানির গ্লাসটা এক চুমুকে শেষ করে ফেলে সে। সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। এ সত্যি ই সেই দিনের মেয়েটা।
সেদিন পার্টি থেকে অতিরিক্ত ড্রি*নক করে বাড়ি ফিরছিল আকাশ। রাস্তায় একটা মেয়ে তাকে দাড় করায়। সারা শরীর কালো বুরখা দিয়ে ঢাকা। হাতে হাতমুজা। এই গরমেও পায়ে মুজা। মুখে হিজাব দিয়ে মুখ বাধা। রাস্তার বাতাসে হিজাব সরে যায় মেয়েটার মুখ থেকে। মেয়েটা ততক্ষনাৎ ঠিক করে নেয়। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড এর দেখাতেই মেয়েটার প্রতি কামনা জেগে উঠে আকাশের। সন্ধা হয়ে আসছিল। মেয়েটা বলল
-দেখুন আর ৫ কিলোমিটার পর আমার বাসা। আমার ফোন ছিনতাই হয়ে গেছে আপনি কি প্লিজ আমায় লিফট দিবেন? নয়ত আপনার ফোনটা দিলেও চলবে।
-এস লিফট দিচ্ছি।
মেয়েটা গাড়িতে উঠার পর উচ্চস্বরে গান ছেড়ে দেয় আকাশ। তারপর নীর্জন এলাকার দিকে ছুটতে থাকে। মেয়েটা চিল্লাতে থাকে
-কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায়? প্লিজ গাড়ি থামান আমি নেমে যাব।
-তা বললে ত হয়না সুন্দরী।
-প্লিজ থামুন পরশুদিন আমার বিয়ে প্লিজ দয়া করুন
-What a co incident পরশুদিন আমার ও বিয়ে। আজ না হয় আমরা দুজনে রিহার্সাল করে নিলাম।
এরপর একটা নীর্জন যায়গায় গাড়ি থামিয়ে মেয়েটির উপর পাশবিক নি*র্যাতন চালায় আকাশ। তারপর গলা টিপে হ*ত্যা করে জঙলে পু*তে ফেলে।
সে এরকম আগেও করেছে। পুলিশ তার সম্পর্কে কখনো কোনো প্রমাণ ই পায়নি। এখন এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু সাদিয়াকে দেখে তার প্রাণ পাখি উড়াল দিয়ে গেল। সাদিয়ে একদম স্বাভাবিক আচরণ করছে। সে খাট থেকে নেমে এসে আকাশকে সালাম পর্যন্ত করল। আকাশ ভয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
আকাশ ছাদে বসে একের পর এক সি*গারেট টানছে। এটা কীভাবে হতে পারে? মেয়েটাকে সে নিজের হাতে খু*ন করে পুতে ফেলেছে। মেয়েটার বাঁ*চার কোনো চান্স ই নেই। আর এই কথাটা সে কার সাথে শেয়ার করবে? একটা রে*প ও মা*র্ডার করার কথা চাইলেই সবার সাথে শেয়ার করা যায়না।
এমনটাও ত হতে পারে অই মেয়েটা আর এই মেয়েটা দেখতে একই রকম। এই মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করতে হবে তার যমজ বোন আছে কিনা
ঘরির দিকে তাকালো আকাশ। রাত দুটো বাজে। সে ২ ঘন্টা হল বসে আছে এখানে। আকাশের দিকে তাকায় সে। দশমীর বাকা চাঁদটা হালকা আলো ছড়াচ্ছে। সে বুঝতে পারছে না সে কি বাসর ঘরে যাবে নাকি যাবেনা।
যেতে ত তাকে হবেই। নয়ত অন্য মানুষেরা না জানি কি মনে করবে!
আকাশ পা টিপে টিপে নিজের ঘরের কাছে আসে। ঘর পুরো অন্ধকার। আলো জালানোর জন্য সুইচ এ হাত রাখল। আলো জলল না। পুরো বাড়ি অন্ধকার। আকাশ ভাবল হয়ত লাইট চলে গেছে। সে পকেট থেকে নিজের ফোন বের করল। ফোন এর বেটারি ডে*ড অফ হয়ে গেছে। আকাশ সন্ধায় ই ফোন ফুল চার্জ করেছিল। বাপারটা কি হল?
ভূতে বিশ্বাস করেনা আকাশ। সে ফিজিক্স এ অনার্স করেছে ভূতে বিশ্বাস করার কোনো কারণ ই নেই। সে গলায় কাসি দিল। কিন্তু মেয়েটা কোনো শব্দ ই করল না। হয়ত ঘুমিয়ে গেছে। ভূতের টেনশন টা আকাশ বাদ দিল। এক চেহারা কি দুইজন মানুষের হয়না নাকি?
হতেই পারে। এই ভেবে আকাশ সমস্ত সন্দেহ উড়িয়ে দিল। রুম থেকে বের হল মোমবাতির খুজে।
চলবে.......
গল্পঃ #তোমায়_শাস্তি_পেতে_হবে
পর্ব ০১
নাহার
নতুন পাঠকেরা পরবর্তী পর্বগুলো মিস না করতে চাইলে সাথেই থাকুন 💐
গল্পঃ #তোমায়_শাস্তি_পেতে_হবে
পর্বঃ ২
নাহার
আকাশ কোন মোমবাতি খুঁজে পেল না। আবার ঘরে ফিরে এলো।
- এই যে আপনি বারবার এ ঘর ও ঘর করছেন কেন?
চমকে উঠল আকাশ। এই মেয়েটার গলা সেই মেয়েটার গলার মধ্যে ও মিল আছে। আচ্ছা এই মেয়েটা ই সেই মেয়েটা নয়ত?
কিন্তু তা তো সম্ভব নয় ওই মেয়েকে তো নিজের হাতে মেরেছে আকাশ।
- আপনি কি কথা বলতে পারেন না? বলেন।
- না মানে ঘর ভীষণ অন্ধকার একটা মোমবাতি খুঁজে পাচ্ছি না।
- আর কোথায় অন্ধকার আমি তো সব কিছুই দেখতে পারছি।
এই মেয়ে বলে কি ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে বলে ও নাকি সব দেখতে পাচ্ছে।
-আচ্ছা আমি আপনার জন্য মোমবাতি নিয়ে আসতেছি। আপনাদের এখানে মোমবাতি কোথায় থাকে।
- আমার টেবিলের ড্রয়ারে থাকে।
সাদিয়া আকাশের টেবিলের ড্রয়ারে হাত দিয়েই মোমবাতি পেয়ে গেল। আকাশ কিছুক্ষণ আগেই ড্রয়ার ভালো করে চেক করেছে সেখানে কোনো মোমবাতি ছিল না।
- আচ্ছা ম্যাচ কোথায় আছে এটা ত জ্বালাতে হবে।
আকাশ পকেট থেকে তার সিগারেট খাওয়া বের করে দিল। সাদিয়া মোম জ্বালিয়ে নিল। মোমের আলোয় আকাশ সাদিয়াকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।
- আচ্ছা আপনি এতক্ষণ কোথায় ছিলেন আমার যে খুব ঘুম পাচ্ছে আপনার বুঝেন না কিছু? আমার কত ইচ্ছা ছিল আমি আমার বরের সাথে অনেক গল্প করব কিন্তু আপনি তো কথাই বলেন না।
- আচ্ছা তোমার ঘুম পেয়ে থাকলে ঘুমাও।
সাদিয়া একটা চেয়ারে বসে ছিল। আকাশের কথায় তার মন খারাপ হয়ে গেলো। সে চেয়ার থেকে উঠে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পপড়তে ধরল। মোমের আলোয় আকাশ সাদিয়ার বিপরীত দিকের দেয়াল টায় তাকিয়ে দেখল সেখানে সাদিয়ার কোন ছায়া পড়েনি। চমকে উঠল আকাশ এটা তো সম্ভব নয়। ওর হঠাৎই ভীষণ ভয় করতে লাগলো।
- এই যে কি হলো আপনি ঘুমাবেন না।
- আমার একটু কাজ আছে আমি বাইরে যাচ্ছি।
এই কথা বললে আকাশ বাইরে চলে গেল সারা রাত ফিরল না।
রাত তিনটে আকাশ তার ফ্রেন্ড বরাতের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশের ফোন সুইচ অফ হয়ে আছে বরাতকে কেমনে ডাকবে তা সে বুঝতে পারছে না। বাসার দিকে যেতে যেতে আকাশ দেখল বরাতের দারোয়ান ঝিমোচ্ছে। জাগিয়ে বলল গেট খুলতে সে বাসায় যাবে। দাঁড়ান প্রথমে রাজি হলো না কিন্তু সেই ডিউটি সময় বসে ঝিমাচ্ছে বরারকে বলে দেওয়ার ব্ল্যাকমেইল করল আকাশ।
তারপর দারোয়ান রাজি হল এবং ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে দিল। আকাশ ভিতরে ঢুকে সোজা বরারের রুমে ঢুকে গেলাম বরাতের দরজা খোলাই ছিল।
আকাশ বরাত কে ডাকা শুরু করলো। বরাত গভীর ঘুমে নিমগ্ন।
- দোস্ত প্লিজ তাড়াতাড়ি অঠ প্লিজ।
-কোন হারামজাদা রে ঘুমাইতে দে।
- আরে দোস্ত আমি আকাশ।
- পাগল পাইছিস আমার এ। আকাশ এখন ওর বউয়ের সাথে আছে।
- আরে শালা উঠতে বলছে উট।
বরাত এতক্ষণে বুঝতে পেরেছে এটা আকাশের ই গলা কিন্তু ত আকাশের এখন তার কাছে আসার কথা না। সে ভূত ভূত চিৎকার করে উঠলো।
- আরে হারামি আস্তে চিল্লা লাইট দে।
বরাত লাইট জ্বালিয়ে দেখলে সত্যিই আকাশটা সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
-কিরে এত রাতে ভাবিরে রেখে তুই আমার কাছে আসছিস কেন।
- আর বলিস না আমি ফাইসা গেছি।
পড়াটা তাসের খুব ভালো বন্ধু ছিল তাই রেপ,খুন এবং বিয়ে সাদিয়া সব আকাশ বরাতকে খুলে বলল। আকাশের কোন সংকোচ ছিল না। কারণ একসাথে অনেক অন্যায় করেছে তারা।
বরাত অবাক হয়ে গেল তারপর সে বলল
- এমন আবার হয় নাকি।
- কিন্তু দোস্ত তেমনটাই হয়েছে আমি তোর বড় ভুল করতে পারি না।
- তাহলে দুটো জিনিস হতে পারে এক হয়তো এই মেয়েটা ভূত। দ্বিতীয়ত তুই মেয়েটাকে ভালোভাবে মারতে পারিস ও কবর থেকে উঠে এসেছে।
- কিন্তু মাটি দেয়ার পরে কবর থেকে উঠে আসতে পারে না আর ভূতে আমি বিশ্বাস করি না।
- আমি বিশ্বাস করি দোস্ত। চচল তোর বউ ভূত কিনা পরীক্ষা করি।
গল্পের সকল পর্ব নতুন নতুন গল্প পেতে আল মাহমুদ পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।
- অদ্ভুত কেউ ভূত কিনা কিভাবে পরীক্ষা করব?
-আরে ভূতেরা আলো ভয় পায়। আয়নার সামনে যায়না কারণ ওদের আয়নায় দেখা যায়না।
-ধুর। সাদিয়া মোটেও আলো ভয় পায়না । কাল ও নিজেই মোম জালিয়েছে। আমরা না হয় এক কাজ করি। অই মেয়েটাকে যেখানে পুঁতেছিলাম সেখানে গিয়ে দেখি।
-তোর কি মাথা খারাপ? লাশটা যদি পুলিশ পেয়ে থাকে? আর অখানে গিয়ে কবর খুদতেই যদি কেও দেখে ফেলে?
আগে পরিক্ষা কর ভাবি ভূত কিনা? আর ভূত সুন্দরী হলে ভূতের সাথে সংসার করতে অসুবিধা কি?
-আরে আমি মরি আমার জালায়।
ঠিকাছে চল। আজ তোর ভাবীকে আয়নার সামনে নিয়ে যাব।
ওদের কথোপকথন এর মধ্যেই সকাল হয়ে গেল। আকাশ খুব সকালে বরাতকে নিয়ে নিজের বাড়ি ফিরল। তখন ও কেও জাগেনি।
-শুন আমি বাইরে থাকি। তুই রুমে ঢুকে ভাবিকে বল গোসল সেরে একটু সাজতে। সাজার সময় ত আয়নার সামনে যাবেই তখন আমরা দেখব।
আকাশ বরাতের কথা অনুসারে কাজ করল। কিন্তু সাদিয়া বরাতের সামনে আসতে রাজি হচ্ছিলো না।শেষমেশ সাদিয়া কে আয়নার সামনে দাড় করালো আকাশ। কিন্তু সে স্পষ্ট সাদিয়াকে আয়নায় দেখতে পারছিল।
আকাশকে দেখে এমন মনে হল সাদিয়াকে যদি আয়নার সামনে না দেখা যেত তবেই হয়ত সে শান্তি পেত।
সাদিয়ার কাছে মনে হল তার জামাই অদ্ভুত আচরণ করছে। সে কিছু বলল না। আকাশ বাইরে বের হয়ে বরাত কে সব বলল।
এদিকে সাদিয়া ড্রেসিং টেবিলের সামনে রাখা মাথার ব্যান্ড টা নিতে গিয়ে দেখল সে কিছুই তুলতে পারতেছেনা তার হাত গলে সব বের হয়ে যাচ্ছে।
ভয় পেয়ে দুই পা পিছিয়ে গেল সে। কিন্তু পিছিয়েই সে চেয়ারের সাথে ধাক্কা খেল। আবার ড্রেসিং টেবিলের সামনের জিনিস গুলো তুলার চেষ্টা করল। পারছেনা। সেল্ফ থেকে বই বার করল সে। কিন্তু বইটা নিয়ে যেই আয়নার সামনে দাড়ালো সাদিয়ার হাত গলে বইটা পড়ে গেল।
এক অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে সাদিয়া তাকিয়ে থাকল আয়নার দিকে।
Will be continue.........
গল্পঃ #তোমায়_শাস্তি_পেতে_হবে
(শেষ পর্ব)
নাহার
সাদিয়া বুঝতে পারল সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কোনো কাজই করতে পারছে। না এমনকি আয়নার সামনে থাকা কোন জিনিসকে সে ধরতেও পারছে না। এটা কি কোনো অসুখ? আগেতো তার এমন কখনো হয়নি। বাসার কাজের মেয়েকে ডেকে নিয়ে এসে আয়নার সামনে একটা পর্দা ঝুলিয়ে দিল সাদিয়া। সাদিয়ার আরো অদ্ভুত অদ্ভুত লাগতেছে কারণ তার মনে হলো সে মানুষের মনের কথা পড়তে পারতেছে। যেমন মাত্রই কাজের মেয়েটা মনে মনে বলল- কত ঢং দেখব আয়নার সামনে পর্দা টানায়!
এমন কথা নিশ্চয়ই কেউ জোরে জোরে বলবে না।
বিষয়টা পরীক্ষা করে নেয়ার জন্য সাদিয়া মেয়েটাকে বললো- তুমি কি আমার বিষয় এ কোন খা*রাপ কথা বলেছ?
- না আফা না আপনি এইডা কি কন?
কিন্তু আবার সাদিয়া শুনতে পেল মেয়েটা বলছে -আমি আপনেরে মনে মনে যা ইচ্ছে তাই কমু। দুইদিন আইয়া জুইরা বইছেন তার আবার কথা।
সাদিয়া মেয়েটিকে যেতে বলল সেখান থেকে। তার ভীষণ অদ্ভুত লাগছে এসব কি হচ্ছে। ঘর থেকে বের হয়ে সাদিয়াকে কিচেন এ গেল।
সেখানে একটা বিড়াল দাঁড়িয়েছিল। বিড়ালটি সম্ভবত খুব ক্ষুধার্ত ছিল। খাবারের পাত্রের ঢাকনা সারানোর চেষ্টা করছিল। সাদিয়া বিড়ালের জন্য খাবার নিয়ে এলো। সাদিয়ার মনে হলো- বিড়াল যেন বলছে আমাকে প্লিজ খাবার দিবেন।
চমকে ওঠে সাদিয়া। সে কিছুই বুঝতে পারছে না। সে কি সত্যিই শুনছে? নাকি সে পা*গল হয়ে গেছে?
- আপনি দাঁড়িয়ে গেলেন যে. প্লিজ খাবার দিন না। খুব খিদে পেয়েছে। দুইদিন কিছু খাইতে পারিনি।
সাদিয়া বিড়ালটিকে খাবার দিয়ে ভিতরে গেল।
তার শাশুড়ি তাকে ডাকছে। যাওয়ার পর তিনি বললেন -সাদিয়া কেমন আছো তুমি। আমাদের নতুন বাড়ি তোমার কেমন লাগছে? বাবামার কথা মনে পড়ছে খুব? বাসায় যাবে?
- সাদিয়া ঘার নাড়িয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিল সে ভালো আছে আর তার সব কিছু ভালো লাগছে। তেমন একটা মনে পড়ছে না। তবে বাসায় গেলে যেতে পারে।
এর মধ্যেই আকাশ বাড়িতে ফিরল। সে মনে মনে ভেবে নিয়েছে আর সাদিয়াকে সন্দেহ করবে না। সাদিয়া নিশ্চয় মানুষ। আর একজন চেহারা অন্য একটি মেয়ে কে সে খু*ন করেছে। সাদিয়ার সাথে সুখী ভাবে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে চাইছে সে।
ঘরে ঢুকলো সাদিয়া। আকাশ সাদিয়াকে দেখে মুগ্ধ ভাবে তাকিয়ে আছে। সাদিয়ার হাত ধরে টেনে আয়নার সামনে দাঁড়ালো আকাশ।
সাদিয়ার গালে হাত দিয়ে আকাশ বলল-
- বউটা আয়নায় এমন পর্দা টানিয়ে দিয়ে রেখেছ কেন?
- কিছুনা এমনি আমার আয়না ভালো লাগে না তো তাই।
-আচ্ছা না লাগুক পরে টানিয়ে দিও দেখি তোমাকে আর আমাকে একসাথে একবার আয়নায় দেখি।
আকাশকে না করতে যাবে তার আগে ই আকাশে পর্দা সরিয়ে ফেলল।
কিন্তু এ কি এখন সে সাদিয়াকে ধরতে পারতেছে না। সাদিয়ার গায়ে হাত দিলে সেই হাতটা যেন কোন কিছুতেই লাগেনি এমন ভাবে নিচে চলে আসতেছে ওর পাস দিয়ে হাত দিলে হাত ভেতরে চলে যাচ্ছে এবং বাইরেও বের হয়ে আসছে।
অমানুষিক আতঙ্ক পেয়ে বসল আকাশকে।
- তুমি তাহলে সেই মেয়েটা তাই না। তুমি তাহলে সেই মেয়েটা যাকে আমি খু*ন করেছি।
মনে মনে বিড়বিড় করতে থাকে আকাশ। কিন্তু সাদিয়া সব শুনে ফেলেছে. বলে।
- তুমি খু*ন করেছ করেছ মানে? তুমি আমাকে খুন করেছে? তুমি কোন মেয়ে কে খু*ন করেছ?
- এই মেয়ে কি তাহলে মনের কথা শুনে ফেলেছে নাকি? সেদিন রাস্তায় হাইওয়েতে ওকে রে*প করে মাটিচাপা দিয়েছিলাম তাও কি বুঝে ফেলেছে? আমার এক্ষুনি ওখানে যেতে হবে দেখতে হবে লা*শটা আছে কি নাই!
এই কথাটি আকাশ মনে মনে বলে কিন্তু সাদিয়া শুনে ফেলে। সাদিয়াকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আকাশ বের হয়ে যায়।
- এসব কি বলে গেলো আমাকে রে*প করে খুন করেছে এটা কিভাবে সম্ভব এই যে আমি জলজ্যান্ত মানুষ দাঁড়িয়ে আছি!
হঠাৎ ই আয়নায় সাদিয়ার প্রতিচ্ছবি হেসে উঠলো।
আয়নার সাদিয়া আর বাস্তবের সাদিয়া যেন এক নয়। আয়নার সদিয়া বোরখা পরা তার শরীর ক্ষতবিক্ষত। আয়নার সাদিয়া, সাদিয়া কে বললো তুমি সত্যিই জলজ্যন্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছে সাদিয়া?
সাদিয়া ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। তবুও সে ওর আয়নার প্রতি রূপটারর সাথে কথা বলতে শুরু করল।
- তো দেখতে পাচ্ছ না আমি? আছি তুমি কি? তুমি কি কোন জিন নাকি তুমি পরী?
- আমি কোন জিন ও না আমি কোন পরিও না। আমি তুমি তোমার একাংশ আমি। তোমাকে বা আমাকে খু*ন করা হয়েছে ৩ দিন আগে। মনে কর সাদিয়া তুমি সব ভুলে গিয়েছিলে। এখন মনে করো মনে করার সময় এসে গেছে। তোমার যে সবাইকে শাস্তি দিতে হবে।
- কি বলছ এসব চুপ করো তুমি চুপ করো।
- বিশ্বাস না হলে তুমি বলো কেন তুমি আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোন কিছু তুলতে পারো না? কেন তুমি সবার মনের কথা বুঝে ফেলছো? কেন তুমি পশু পাখি র ও কথা বুঝতে পারছো? আগে কি তুমি এসব পারতে?
- এইসব নিশ্চয়ই ক ইন্সিডেন্ট। কিন্তু আমি সত্যি বেশি বেঁচে আছি এই দেখো আমার শরীর।
-নিজের শরীর কে*টে দেখতো র*ক্ত বের হয় কেন।
সাদিয়া বু*কসেলফ এর কাছে থেকে একটি স্কেল নিয়ে নিজের হাতে জোরে মা*রল। র*ক্ত বের হওয়া তো দূরে থাক সে কোনরূপ ব্যাথাও পেল না। (৫)
- সাদিয়া তুমি মা*রা গেছো। তোমাকে বিশেষভাবে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যাতে তুমি পৃথিবীর সব রেপিস্ট এবং নারীর উপর অন্যায় কারী কে শাস্তি দিতে পারো। এখন তুমি তাকে কিভাবে শাস্তি দিবে তা তোমার ব্যাপার। তবে হ্যাঁ নারীর উপর যত অত্যাচারের খবর শুনবে সবগুলো অত্যাচারের প্রতিবাদে তোমাকে যেতে হবে।সব মেয়ে এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তোমাকে মনোনীত করা হয়েছে।
অতীতের দুর্বিষহ স্মৃতি যেন তোমাকে বারবার আঘাত না করে তাই সেই স্মৃতি গুলো মুছে ফেলা হয়েছে তোমার মেমোরি থেকে।
- বিশ্বাস করিনা আমি তোমায় আমি বেঁচে আছি আমি বেঁচে আছি।
আর্তনাদ করে ওঠে সাদিয়া।
- ঠিক আছে তুমি যখন বিশ্বাস কর ই না তখন তুমি তোমার স্বামীর পিছনে পিছনে যাও। তোমার স্বামী এখনো বাইরে দাঁড়িয়ে যার বন্ধু বরাতের অপেক্ষা করছে।
- তুমি মিথ্যে বলছো।
সাদিয়া আয়নার সামনে রাখা চুলের কা*টা নিতে গেল কিন্তু সে কিছুতেই ধরতে পারল না। তারপর সে বুকসেলফ এর উপর থেকে একটি বই নিয়ে ওখানে দাড়িয়েই আয়নার উপর ছুড়ে ফেলল।
আয়না ভেঙে খানখান হয়ে গেল কিন্তু আয়নার সাদিয়া টা তবুও হাসতে থাকলো জোরে জোরে।
সাদিয়া কিছু বিশ্বাস করতে পারছিল না এরকম কখনও হয় নাকি ভূতের গল্প এউ তো এরকম হয়না।
সাদিয়া আয়নার ওই মেয়েটার কথা অনুসরণ করে তার স্বামীর পেছনে গেল। স্বামী মাত্রই নিজের গাড়িতে নিয়ে চলে গেল। সাদিয়া যেনো হঠাৎই বুঝতে পারল সে খুব দ্রুত তার স্বামীর পিছনে যেতে পারছে। সব সময় তার স্বামীর থেকে 2 মিটার দূরত্ব বজায় থাকছে। সে কোন কিছুর সাথে বাড়িও খাচ্ছে না ইভেন তাকে কেউ দেখতেও পারছে না। কারণ সে দেখল সে অনায়াসে ট্রাকের মাঝখান দিয়ে ঢুকে গেল। 2 মিটার দূরত্বের কখনোই কম বেশি হচ্ছে না।
10-15 কিলোমিটার যাওয়ার পর হাইওয়ের পাশে তার স্বামী গাড়ি থামাল।
সাদিয়া দেখল আকাশ জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে গেছে। সে আকাশ এর পিছনে পিছনে গেল। দেখতে পেলো আকাশ আর বরাত খু*ন্তি নিয়ে মাটি খুড়ছে।
কিছুক্ষণ খুরাখুরির পর একটা লা*শ বের হয়ে গেল। কালো বোরকা পরা একটা মেয়ের লা*শ। লা*শ টি তে পচন ধরেছে। বরাত বুঝতে পারছিল না এটা কি সত্যিই সাদিয়া। সে লা*শের মুখের উপর থেকে নিকাব সরালো।
মুখের মাং*স অনেকটাই পচে গেছে। কিন্তু বোঝা যায় এটা সত্যি সাদিয়ার লা*শ।
-তাহলে অই মেয়েটি কে।
-আরে ধুর অইটা নিশ্চই মানুষ। স্পেশাল হয়ত। আমার মনে হয় কি দেখতে কি দেখেছিস।
তারা লা*শটিকে আবার পুঁ*তে ফেলল। তারপর পিছন ঘুরতেই দেখল সাদিয়া দাড়িয়ে। আকাশ, বরাত স্তম্ভিত হয়ে গেল।
-তোমরা সব ঠিকি দেখেছ। আমায় পাঠানো হয়েছে তোমাদের মত জা*নোয়ার দের শাস্তি দেয়ার জন্য।
-কিন্তু কীভাবে এটা সম্ভব?
-তা তোরা জেনে কি করবি? আমার কাজ আমি করব।
বলেই সাদিয়া বরাতের দিকে ইশারা করল আর বরাতের দুই চোখ ফে*টে র*ক্ত আসতে শুরু করল। বরাত ততক্ষনাৎ প্যা*রালাইজড হয়ে গেল।
সাদিয়া আকাশের কাছে গেল। আকাশের কানের কাছে মুখ দিয়ে বলল
-তোর শাস্তি হল আমি আজীবন তোর বউ হয়ে থাকব। তুই আমায় ছুতে পারবিনা।
আমি তোকে কষ্ট দিয়ে দিয়ে তিলে তিলে মা*রব।
,,,,,,,
এরপর থেকে মাঝেমাঝে ই সাদিয়া রাতে বাসায় থাকত না। কিন্তু ও যেদিন বাসায় থাকত না তারপর দিন নিউজ এ আকাশ একটা করে মৃ*ত্যুর খবর অবশ্যই পেত।
সমাপ্ত

0 মন্তব্যসমূহ